তিস্তার পানি বিপদসীমার খুব কাছে, ডিমলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

 


 

 

 

 

 

 

 

মোঃ ফেরদৌমকিবরিয়া (নয়ন) ডিমলা ও নীলফামারী প্রতিনিধি ঃ-

উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টির কারণে নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তিস্তা ব্যারাজের নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

এর আগে সকাল ৯টায় ওই পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার এবং দুপুর ১২টায় ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পানি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটের সব কয়টিই খুলে রেখেছে পাউবো কর্তৃপক্ষ।

শনিবার সন্ধ্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এই তথ্য জানিয়েছে। 

এদিকে নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিমলা উপজেলার তীরবর্তী সাতটি ইউনিয়নের ১৫টি চরগ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার পানি বসত ভিটার উঠানে ঢুকে পড়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ।

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানির বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার উল্লেখ করে পাউবো জানায়, বৃহস্পতিবার ওই পয়েন্টে সকাল ৯টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত ৬৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং বুধবার সকাল ৯টায় ১০৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে তিস্তার পানি প্রবাহিত হয়েছে। 

তবে শুক্রবার সকাল থেকে পানি বাড়তে থাকে। এদিন সকাল ৯টায় ৩৯ সেন্টিমিটার, বেলা ১২টায় ৩৫ সেন্টিমিটার এবং বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ৩২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর রাত থেকে বাড়তে থাকে নদীর পানি। 

তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই, পূর্বছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, খগাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। এসব গ্রামের পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের বাড়ির উঠানে পানি প্রবেশ করায় বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

পূর্বছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, ভারত থেকে তিস্তা নদী কালিগঞ্জ ইউনিয়ন দিয়ে প্রবেশ করেছে। পানি বাড়ার সঙ্গে আমার ইউনিয়নের পূর্বছাতনাই ও ঝাড়সিংহেশ্বর মৌজার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে মানুষের বাড়ির উঠান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এতে করে ওই দুই মৌজার এক হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ইউএনও এলাকা পরিদর্শন ও দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন।

 ডিমলার খালিশাচাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চার নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রবিউল ইসলাম বলেন, গত তিন দিন ধরে তিস্তায় পানি বাড়ায় বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার সকাল থেকে তিস্তা পারের পরিবারগুলোর অনেক নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ইউনিয়নের পূর্ব বাইশপুকুর ও পশ্চিম বাইশপুকুর গ্রামে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ইউনিয়নটির বাইশপুকুর গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, সকালে নদীর পানি বেড়ে গ্রামে প্রবেশ করছে। এতে গ্রামের প্রায় ৩০০ বিঘা আধাপাকা আমন ধানের ক্ষেত পানির নিচ তলিয়ে গেছে। এক সপ্তাহ পানির নিচে ধান গাছ ডুবে থাকলে নষ্ট হয়ে যাবে। 

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না জানান, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে প্রায় ১২ হেক্টর আমন ধানের ক্ষেত আংশিক পানিতে ডুবে আছে। আমরা পাউবোর সঙ্গে যোগযোগ রেখেছি। নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কমে স্বাভাবিক হবে। আমন ক্ষেত এক সপ্তাহ পানিতে ডুবে থাকলেও কৃষকের তেমন ক্ষতি হবে না।

পাউবো নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আতিকুর রহমান বলেন, শুক্রবার তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্ট এলাকায় ১৩৯ মিলিমিটার এবং শনিবার ৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সবকটি জলকপাট খোলা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তবুও আমরা সতর্ক রয়েছি। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত আগের দিনের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে।

 

 

Post a Comment

0 Comments